সময়ের কথা নিউজ
১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, মঙ্গলবার, ১১:১৫
৬ মিনিটে পড়ুন
২৫ ডিসেম্বর লন্ডন থেকে ১৭ বছরের নির্বাসন কাটিয়ে দেশে ফেরেন বিনপির তখনকার ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপার্সন জনাব তারেক রহমান। তার ফেরার দিন জনজোয়ার তৈরি করেছিল বিএনপি। পূর্বাচলের তিনশ ফিটে (৩৬ জুলাই এক্সপ্রেসওয়ে) বিশাল জনসমাবেশের আয়োজন করে দলটি। তারেক রহমান সেখানে অভুতপূর্ব এক ভাষণ দিলেন। আগামীর বাংলাদেশের রূপরেখা প্রকাশ করলেন। জানিয়ে দিলেন, তার একটি পরিকল্পনা (আই হ্যাভ অ্যা প্ল্যান) আছে।
তারেক রহমানের মা, বিএনপির চেয়ারপার্সন এবং তিনবারের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ৩০ ডিসেম্বর মৃত্যু বরণ করেন। ৩১ ডিসেম্বর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় ইতিহাসের সবচেয়ে বড় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। অন্তত ৫০ লাখ মানুষ অশ্রুসিক্ত চোখে বিদায় জানান বেগম খালেদা জিয়াকে।
তারেক রহমানের ফেরার দিন বিএনপির জনসমাবেশ, তার অভুতপূর্ব ভাষণ এবং খালেদা জিয়ার মৃত্যু ও স্মরণাতীতকালের বৃহত্তম জানাজার মধ্য দিয়ে সাবেক ক্ষমতাসীন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বা বিএনপির একটি জনজোয়ার তৈরি হয়েছিল সারাদেশে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে ফ্যাসিস্ট হাসিনার বিদায়ের পর সারাদেশে বিএনপির নেতাকর্মীরা যেভাবে চাঁদাবাজির মহোৎসব তৈরি করেছিল এবং এর ফলে তাদের জনপ্রিয়তায় যে ধ্বস নেমেছিল, সেটা কিছুটা হলেও রিকভার করা সম্ভব হয়। মানুষ আবার বিএনপির দিকেই ঝুঁকতে শুরু করে। সবার মধ্যে প্রত্যাশা তৈরি হয়, এবার তাহলে পরিস্থিতি বদলাবে। ১৭ বছর নির্বাসনে থাকার ফলে তারেক রহমানের মধ্যে ম্যাচ্যুরিটি তৈরি হয়েছে। বয়সের সঙ্গে বেড়েছে অভিজ্ঞতাও। নেতৃত্বের নতুনত্ব দিয়ে দেশকে সত্য-সুন্দর, নতুনের পথে পরিচালিত করবেন। দলকে নিয়ন্ত্রণ করে নেতাকর্মীদের জনকল্যাণমুখী করবেন। মানুষের আশা-ভরসার প্রতীক হয়ে উঠবেন।
কিন্তু দেশের মানুষের সকল আশার গুড়ে বালি দিয়ে দিলেন তারেক রহমান নিজে। মানুষ অবাক হয়ে প্রত্যক্ষ করলো ঋণ খেলাপি, ব্যাংক দখলকারী, লুটেরা এবং ভুমি দস্যুদের গণহারে মনোনয়ন দিলেন তিনি। টাকার কাছে নতি স্বীকার করে খোদ বিএনপিরই অনেক ত্যাগী নেতাকে মনোনয়ন বঞ্চিত করলেন। যে কারণে দেখা যায় ৭০ থেকে ৮০টা আসনে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী, যাদের অনেকেই হেভিওয়েট। শুধু তাই নয়, অবাক বিস্ময়ে সবাই লক্ষ্য করলেন, বিএনপির অধিকাংশ সিনিয়র নেতাকে চুপ করিয়ে দিলেন তারেক রহমান। নিজের আশপাশে তৈরি করলেন চাটুকারের বাবল। যারা প্রতিনিয়ত তাকে ভুলভাল তথ্য দিয়েই যাচ্ছে।
তারেক রহমানকে নিয়ে মানুষের প্রত্যাশার বেলুন ফুটো হতে শুরু করে, তিনি যখন এনআইডি কার্ড করতে যান, তখন থেকে। মি. রহমান নিজে হোন কিংবা তার দলের অতি উৎসাহী কেউ- এনআইডি সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশ করে দিলো। মানুষ অবাক হয়ে দেখলো, তিনি মাত্র ইন্টারমিডিয়েট পাশ। দেশের মানুষ তার শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে বড় একটা ধাক্কা খেল তখন। সবাই জানতে চাইলো, ১৭ বছর লন্ডনে বসে বসে কী করলেন তিনি? গ্রাজুয়েশন শেষ করতে কত বছর লাগে?
এরপর এলো তার নির্বাচনী হলফনামা। তারেক রহমান নিজের দ্বৈত নাগরিকত্বের বিষয়ে কোনো সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা জাতির সামনে দেননি। স্রেফ দলীয় প্রধান হওয়ার কারণে নির্বাচন কমিশন এ বিষয়ে তাকে ‘বেকসুর’ ক্লিয়ারেন্স দিয়ে দিলো। কিন্তু তিনি সত্যিই ব্রিটিশ নাগরিক হয়ে থাকেন, তাহলে সেটা স্যারেন্ডার করেছেন কিনা সে প্রমাণ জনগনের কাছে নেই। নির্বাচনে ফল অনুকূলে না আসলে যে জনাব রহমান বাংলাদেশেই থাকবেন না, সেটা দেশের মানুষ এখন বিশ্বাস করে।
নির্বাচনের প্রচারণা শুরুর পর তারেক রহমান তার আনুষ্ঠানিক ক্যাম্পেইন শুরু করলেন সিলেট থেকে। সারা দেশে ঘুরলেন। নানা প্রতিশ্রুতির বন্যা বইয়ে দিয়েছেন। কিন্তু একজন তারেক রহমানের কাছ থেকে যেমন স্টেটম্যানশিপ কথা-বার্তা আশা করেছিল সবাই, তার ছিটেফোটাও দেখা গেলো না। গণমানুষের নেতা হওয়ার মত কোনো বয়ানই হাজির করতে পারেননি তিনি। বরং, প্রকারান্তরে বিরোধীদের সমালোচনা করতে গিয়ে দলের চান্দাবাজ ও ঋণখেলাপীদের সাফাই গেয়েছেন। নিজে ১৭ বছর পালিয়ে থেকে, অনলাইনে দল পরিচালনা করেছেন। উল্টো বিরোধী যারা জেল-জুলুম, হত্যা-নির্যাতনের শিকার হয়েছে, তাদেরকে গুপ্ত বলে আখ্যায়িত করলেন। নিজ দলের নারী হেনস্তাকারীদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টো তাদের পেট্রোনাইজ করে গেছেন প্রতিনিয়ত।
প্রচারণার শুরু করেছিলেন বিভক্তি দিয়ে। রাজাকার, যুদ্ধাপরাধী- আওয়ামীলীগের বিদায়ের সঙ্গে সঙ্গে মুছে যাওয়া এসব ট্যাগ হাজির করে জনমতকে প্রভাবিত করতে চেয়েছেন তিনি। কিন্তু পরে বুঝলেন জনগণ এসব আর গ্রহণ করে না। ফলে, তারেক রহমান এসব বলা থেকে সরে এসেছেন। হাজির করেছেন `গুপ্ত‘ তত্ব। কিন্তু তিনি ডাকসু, জাকসুসহ ৫টি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদের নির্বাচনের দিকে তাকিয়ে দেখেননি। সেখানে এসব `গুপ্ত‘ তকমা যে বুমেরাং হয়েছে, সে উদাহরণ তিনি সামনে রাখেননি। বরং, এসব বলে হাসির পাত্রে পরিণত হয়েছেন।
ডাকসু নির্বাচনে যেমন ছাত্রদলের প্রার্থীরা নিজেদের বয়ান হাজির না করে সারাক্ষণ ছাত্র শিবিরের প্রার্থীদের সমালোচনায় ব্যস্ত ছিল, ঠিক একই কাজ করছেন তারেক রহমানরা। কয়েকটি কার্ডের প্রতিশ্রুতিছাড়া বাকি সময়টা জামায়াতে ইসলামী জোটের সমালোচনা করাছাড়া আর কোনো কিছুতেই মনযোগী হননি তারা। কিন্তু ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ডসহ অনেকগুলো কার্ডের প্রতিশ্রুতি দিলেও এগুলোর জন্য অর্থ সংস্থান হবে কোথা থেকে, তার কোনো স্পষ্ট তথ্য জাতির সামনে হাজির করেননি। ২ হাজার টাকা করে ফ্যামিলি কার্ডে টাকা দেয়া হবে। ৪ কোটি ফ্যামিলি কার্ডের জন্য মাসে লাগবে ৮ হাজার কোটি টাকা। বছরে ৯৬ হাজার কোটি টাকা। এ টাকা আসবে কোত্থেকে, সে হিসাব দেননি। উল্টো, মানুষ আতঙ্কে রয়েছে ফ্যামিলি কার্ডের ২ হাজার টাকা তোলার জন্য বিএনপির চাঁদাবাজদের কতটাকা করে চাঁদা দিতে হবে, তা নিয়ে।
শিক্ষিত তরুণদের কাজের ব্যবস্থা করার কোনো প্রতিশ্রুতি নেই, আছে বেকার ভাতার কথা। বেকার ভাতা দিয়ে শিক্ষিত তরুণ-যুবকদের আরও অকর্মণ্য করে তোলার প্রতিশ্রুতি হিতে-বিপরীত হতে যাচ্ছে বিএনপির জন্য। যুব সমাজ চব্বিশের জুলাই আন্দোলন করেছিল যোগ্যতা অনুযায়ী কাজের ন্যায্য অধিকারের জন্য। বেকার ভাতা পাওয়ার জন্য নয়।
সবচেয়ে বড় কথা, বাংলাদেশ সম্পর্কে তারেক রহমানের কোনো স্টাডি নেই। বিভিন্ন বিভাগীয় ও জেলা শহরে গিয়ে তিনি যে সব ভুলভাল বক্তব্য দিয়েছেন, তা এরই মধ্যে সারাদেশে হাসির খোরাক যুগিয়েছে এবং তাকে অযোগ্য হিসেবে প্রমাণ করে তুলেছে। চট্টগ্রামে গিয়ে তিনি বলেছেন, চট্টগ্রামকে বাণিজ্যিক রাজধানীর মর্যাদা দেয়া হবে। অথচ, ২০০৩ সালেই তার মায়ের নেতৃত্বে চারদলীয় জোট সরকার সেই মর্যাদা দিয়েছিল। কুমিল্লায় বলেছেন, ইপিজেড করে দেবেন। অথচ, ২০০৩ সাল থেকেই ইপিজেড চালু রয়েছে কুমিল্লায়। ফরিদপুরে বললেন, সোয়াবিন চাষ বাড়িয়ে দেবেন। অথচ, সেখানে সোয়াবিনই চাষ হয় না। হয় ভুট্টা। যশোরে বললেন, চিনিকল পূনরায় চালু করবেন। অথচ, যশোরে চিনিকলই কখনো ছিল না।
নীলফামারীতে মেডিক্যাল কলেজ স্থাপনের প্রতিশ্রুতি দিলেন, অথচ সেখানে আগে থেকেই মেডিক্যালন কলেজ রয়েছে। দিনাজপুরের আমকে তিনি বিশ্বের বাজারে ঠাঁই করে দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেন। অথচ, দিনাজপুরে বিখ্যাত হলো লিচু। তিস্তা ব্যারেজ নির্মাণের ঘোষণা দিয়েছেন। অথচ, এই ব্যারেজ রয়েছে ১৯৯০ সাল থেকে।
ঢাকার মেট্রো রেলের সমালোচনা করে বললেন, মাত্র ২৫ ভাগ মানুষের উপকার করছে এই মেট্রো। অথচ, তিনি হিসেব করলেন না, ঢাকা শহরে ২৫ ভাগ মানুষ মানে হলো অন্তত ৫০ থেকে ৭০ লাখ মানুষ। তিনি এতবড় একটি সংখ্যাকে হিসেবেই ধরলেন না।
ইসলাম সম্পর্কেও জানাশোনা খুবই কম জনাব তারেক রহমানের। তিনি ইসলামের ইতিহাস কখনো পড়েননি, এটা নিশ্চিত। যে কারণে বলে বসলেন, হযরত আয়েশা (রাঃ) বদর যুদ্ধের নেতৃত্ব দিয়েছেন।
জানার আরো অনেক ঘাটতি আছে তার। নারী ইস্যুতে নিজেরা অনেক বেশি হেনস্তা হওয়ার পর অনেক পরিকল্পনা ও ষড়যন্ত্র করে জামায়াত আমিরের টুইটার আইডি হ্যাক করে সেখান তেকে নারীদের বিষয়ে আপত্তিকর মেসেজ পোস্ট করা হয়েছে। জামায়াত বিষয়টাকে দ্রুত হ্যান্ডেল করে জানিয়ে দিয়েছে, কাদের কাজ এটা। কিন্তু পরিকল্পনা অনুযায়ী ছাত্রদল, যুবদল, মহিলা দল এবং মূল বিএনপি- তুমুল আন্দোলন-প্রতিবাদে ফেটে পড়লো। যেন পরিকল্পনামত আলাদিনের চেরাগ হাতে পেয়ে গিয়েছিল তারা। সর্বশেষ তারেক রহমানও সমাবেশে বিষয়টা নিয়ে কথা বলতে গেলেন। তাতেও বিপত্তি। ঠিকমত `হ্যাক‘ শব্দটাই উচ্চারণ করতে পারলেন না তিনি। ১৭ বছর লন্ডনে থেকে আসা একজন ব্যক্তির মুখ থেকে এমন একটি শব্দ বের হতে `দাঁত ভাঙা‘র মত অবস্থা দেখে মানুষ বুঝে গেছে কার যোগ্যতা কতটুকু। কে কাকে দিয়ে জামায়াত আমিরের টুইটার অ্যাকাউন্ট হ্যাক করিয়েছে।
শুধু তাই নয়, রয়টার্সের সঙ্গে সাক্ষাৎকার দিতে গিয়ে জনাব রহমান যেভাবে ইংরেজিতে কথা বলেছেন, তা দেখে বিএনপির অনেককেই বলতে শুনেছি, ‘তার ইংরেজি ভাষাজ্ঞান হাইস্কুল লেভেলে থার্ড গ্রেডেরও না।’ ১৭ বছর লন্ডনে থাকা একজন ব্যক্তির ইংরেজি এত দুর্বল! তাহলে তিনি দেশ চালাবেন কিভাবে?
মূলতঃ তিনি কোনোভাবেই নিজেকে প্রস্তুত করেননি দল ও দেশ চালানোর জন্য। ১৭ বছর লন্ডনে বসে থেকে একটা ডিগ্রি নিতে পারলেন না। ইংরেজিটাও ঠিক মত শিখতে পারেননি।
গণভোটের বিষয়ে তারেক রহমানদের তথা বিএনপির অবস্থান ছিল ‘না’ ভোটের পক্ষে। কেন্দ্রীয় দু’একজন নেতা কৌশলে ‘হ্যাঁ’ এর কথা বললেও সারাদেশে বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা ‘না’ ভোটের প্রচারণা চালিয়েছেন। ‘না’ ভোট মানে জুলাইয়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়া। ‘না’ ভোট মানে ভারতীয় আধিপত্যবাদের পক্ষে অবস্থান গ্রহণ করা। ‘না’ ভোট মানে আওয়ামী ফ্যাসিবাদকে টিকিয়ে রাখা। তারেক রহমান শুরু থেকে রহস্যজনক কারণে এ বিষয়ে ছিলেন পুরোপুরি চুপচাপ। শেষ পর্যন্ত জনমতের অবস্থান দেখে নিজেদের পিঠ বাঁচাতে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রকাশ্যে কথা বললেন তিনি। এতে করে দেশব্যাপি ‘না’ ভোটের প্রচারণা চালানো তার নেতা-কর্মীরা পড়ে যায় বিপাকে। এরপর দেখা গেলো, বিএনপির ইশতেহারে ‘না’ ভোটকেই উৎসাহিত করা হয়েছে। সংস্কারের বিষয়গুলোকে পাল্টে দেয়ার প্রতিশ্রুতি রাখা হয়েছে ইশতেহারে। জনগণের প্রশ্ন, তারেক রহমান এবং বিএনপি আসলে কোন পক্ষে? ‘হ্যাঁ’ না ‘না’ ভোটের পক্ষে।
সর্বশেষ ভারতীয় আধিপত্যবাদ প্রসঙ্গ। জুলাই আন্দোলনের অন্যতম স্পিরিচুয়াল শক্তি ছিল ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিপক্ষে লড়াই। হাসিনা দেশকে ভারতের কাছে বিক্রি করে দিয়েছেন। সেখান থেকে ছাত্রজনতা জুলাই আন্দোলন করে বাংলাদেশকে দ্বিতীয় স্বাধীনতা এনে দিয়েছে। এবার নির্বাচনের আগে তারেক রহমান এবং বিএনপির পক্ষ থেকে আধিপত্যবাদ বিরোধী কোনো অবস্থানই মানুষ দেখেনি। বরং, সচেতন নাগরিকরা বিশ্বাস করে, বিএনপি ভারতের সঙ্গে আঁতাতা করেই নির্বাচনের লড়াইয়ে নেমেছে। ভারত নির্লজ্জভাবে বিএনপিকেই সমর্থন করে যাচ্ছে। যে তারেক রহমান মায়ের সঙ্কটাপন্ন অবস্থা সত্ত্বেও লন্ডনে বসে বলেছিলেন, দেশে ফেরা তার একক সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করে না, সেই তিনি কয়েকদিনের মধ্যে কিভাবে, কার সঙ্গে সমঝোতা করে দেশে এসেছেন- জাতি জানতে চায়। কিন্তু তারেক রহমান তার কিছুই স্পষ্ট করেননি।
নারী হেনস্তা, তাদের কাপড় খুলে ফেলা, মাথায় কোপ দেওয়া, রাস্তাঘাটে গায়ে হাত দেওয়া এমনকি বৃদ্ধা ও গর্ভবতী নারী পেটে লাথি দেওয়ার মত ঘটনা ঘটিয়েছে বিএনপির নেতাকর্মীরা। দেশব্যাপি তুমুল চাঁদাবাজি এখনও অব্যাহত রেখেছে তারা। তারেক রহমান এদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি।
আগামী দিনের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার মত একজন শীর্ষ নেতার যখন এত অযোগ্যতা সামনে এসে দাঁড়ায়, তখন মানুষ চিন্তা করতে বাধ্য হচ্ছে- মূলত তারা কাকে নির্বাচন করবেন? এমন একজন অযোগ্যকে, নাকি যারা যোগ্যতার সঙ্গে দেশে ন্যায় ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করতে পারবেন, দুর্নীতি প্রতিরোধ করতে পারবেন, তাদেরকে?
২৫ ডিসেম্বর লন্ডন থেকে ১৭ বছরের নির্বাসন কাটিয়ে দেশে ফেরেন বিনপির তখনকার ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপার্সন জনাব তারেক রহমান। তার ফেরার দিন জনজোয়ার তৈরি করেছিল বিএনপি। পূর্বাচলের তিনশ ফিটে (৩৬ জুলাই এক্সপ্রেসওয়ে) বিশাল জনসমাবেশের আয়োজন করে দলটি। তারেক রহমান সেখানে অভুতপূর্ব এক ভাষণ দিলেন। আগামীর বাংলাদেশের রূপরেখা প্রকাশ করলেন। জানিয়ে দিলেন, তার একটি পরিকল্পনা (আই হ্যাভ অ্যা প্ল্যান) আছে।
তারেক রহমানের মা, বিএনপির চেয়ারপার্সন এবং তিনবারের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ৩০ ডিসেম্বর মৃত্যু বরণ করেন। ৩১ ডিসেম্বর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় ইতিহাসের সবচেয়ে বড় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। অন্তত ৫০ লাখ মানুষ অশ্রুসিক্ত চোখে বিদায় জানান বেগম খালেদা জিয়াকে।
তারেক রহমানের ফেরার দিন বিএনপির জনসমাবেশ, তার অভুতপূর্ব ভাষণ এবং খালেদা জিয়ার মৃত্যু ও স্মরণাতীতকালের বৃহত্তম জানাজার মধ্য দিয়ে সাবেক ক্ষমতাসীন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বা বিএনপির একটি জনজোয়ার তৈরি হয়েছিল সারাদেশে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে ফ্যাসিস্ট হাসিনার বিদায়ের পর সারাদেশে বিএনপির নেতাকর্মীরা যেভাবে চাঁদাবাজির মহোৎসব তৈরি করেছিল এবং এর ফলে তাদের জনপ্রিয়তায় যে ধ্বস নেমেছিল, সেটা কিছুটা হলেও রিকভার করা সম্ভব হয়। মানুষ আবার বিএনপির দিকেই ঝুঁকতে শুরু করে। সবার মধ্যে প্রত্যাশা তৈরি হয়, এবার তাহলে পরিস্থিতি বদলাবে। ১৭ বছর নির্বাসনে থাকার ফলে তারেক রহমানের মধ্যে ম্যাচ্যুরিটি তৈরি হয়েছে। বয়সের সঙ্গে বেড়েছে অভিজ্ঞতাও। নেতৃত্বের নতুনত্ব দিয়ে দেশকে সত্য-সুন্দর, নতুনের পথে পরিচালিত করবেন। দলকে নিয়ন্ত্রণ করে নেতাকর্মীদের জনকল্যাণমুখী করবেন। মানুষের আশা-ভরসার প্রতীক হয়ে উঠবেন।
কিন্তু দেশের মানুষের সকল আশার গুড়ে বালি দিয়ে দিলেন তারেক রহমান নিজে। মানুষ অবাক হয়ে প্রত্যক্ষ করলো ঋণ খেলাপি, ব্যাংক দখলকারী, লুটেরা এবং ভুমি দস্যুদের গণহারে মনোনয়ন দিলেন তিনি। টাকার কাছে নতি স্বীকার করে খোদ বিএনপিরই অনেক ত্যাগী নেতাকে মনোনয়ন বঞ্চিত করলেন। যে কারণে দেখা যায় ৭০ থেকে ৮০টা আসনে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী, যাদের অনেকেই হেভিওয়েট। শুধু তাই নয়, অবাক বিস্ময়ে সবাই লক্ষ্য করলেন, বিএনপির অধিকাংশ সিনিয়র নেতাকে চুপ করিয়ে দিলেন তারেক রহমান। নিজের আশপাশে তৈরি করলেন চাটুকারের বাবল। যারা প্রতিনিয়ত তাকে ভুলভাল তথ্য দিয়েই যাচ্ছে।
তারেক রহমানকে নিয়ে মানুষের প্রত্যাশার বেলুন ফুটো হতে শুরু করে, তিনি যখন এনআইডি কার্ড করতে যান, তখন থেকে। মি. রহমান নিজে হোন কিংবা তার দলের অতি উৎসাহী কেউ- এনআইডি সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশ করে দিলো। মানুষ অবাক হয়ে দেখলো, তিনি মাত্র ইন্টারমিডিয়েট পাশ। দেশের মানুষ তার শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে বড় একটা ধাক্কা খেল তখন। সবাই জানতে চাইলো, ১৭ বছর লন্ডনে বসে বসে কী করলেন তিনি? গ্রাজুয়েশন শেষ করতে কত বছর লাগে?
এরপর এলো তার নির্বাচনী হলফনামা। তারেক রহমান নিজের দ্বৈত নাগরিকত্বের বিষয়ে কোনো সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা জাতির সামনে দেননি। স্রেফ দলীয় প্রধান হওয়ার কারণে নির্বাচন কমিশন এ বিষয়ে তাকে ‘বেকসুর’ ক্লিয়ারেন্স দিয়ে দিলো। কিন্তু তিনি সত্যিই ব্রিটিশ নাগরিক হয়ে থাকেন, তাহলে সেটা স্যারেন্ডার করেছেন কিনা সে প্রমাণ জনগনের কাছে নেই। নির্বাচনে ফল অনুকূলে না আসলে যে জনাব রহমান বাংলাদেশেই থাকবেন না, সেটা দেশের মানুষ এখন বিশ্বাস করে।
নির্বাচনের প্রচারণা শুরুর পর তারেক রহমান তার আনুষ্ঠানিক ক্যাম্পেইন শুরু করলেন সিলেট থেকে। সারা দেশে ঘুরলেন। নানা প্রতিশ্রুতির বন্যা বইয়ে দিয়েছেন। কিন্তু একজন তারেক রহমানের কাছ থেকে যেমন স্টেটম্যানশিপ কথা-বার্তা আশা করেছিল সবাই, তার ছিটেফোটাও দেখা গেলো না। গণমানুষের নেতা হওয়ার মত কোনো বয়ানই হাজির করতে পারেননি তিনি। বরং, প্রকারান্তরে বিরোধীদের সমালোচনা করতে গিয়ে দলের চান্দাবাজ ও ঋণখেলাপীদের সাফাই গেয়েছেন। নিজে ১৭ বছর পালিয়ে থেকে, অনলাইনে দল পরিচালনা করেছেন। উল্টো বিরোধী যারা জেল-জুলুম, হত্যা-নির্যাতনের শিকার হয়েছে, তাদেরকে গুপ্ত বলে আখ্যায়িত করলেন। নিজ দলের নারী হেনস্তাকারীদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টো তাদের পেট্রোনাইজ করে গেছেন প্রতিনিয়ত।
প্রচারণার শুরু করেছিলেন বিভক্তি দিয়ে। রাজাকার, যুদ্ধাপরাধী- আওয়ামীলীগের বিদায়ের সঙ্গে সঙ্গে মুছে যাওয়া এসব ট্যাগ হাজির করে জনমতকে প্রভাবিত করতে চেয়েছেন তিনি। কিন্তু পরে বুঝলেন জনগণ এসব আর গ্রহণ করে না। ফলে, তারেক রহমান এসব বলা থেকে সরে এসেছেন। হাজির করেছেন `গুপ্ত‘ তত্ব। কিন্তু তিনি ডাকসু, জাকসুসহ ৫টি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদের নির্বাচনের দিকে তাকিয়ে দেখেননি। সেখানে এসব `গুপ্ত‘ তকমা যে বুমেরাং হয়েছে, সে উদাহরণ তিনি সামনে রাখেননি। বরং, এসব বলে হাসির পাত্রে পরিণত হয়েছেন।
ডাকসু নির্বাচনে যেমন ছাত্রদলের প্রার্থীরা নিজেদের বয়ান হাজির না করে সারাক্ষণ ছাত্র শিবিরের প্রার্থীদের সমালোচনায় ব্যস্ত ছিল, ঠিক একই কাজ করছেন তারেক রহমানরা। কয়েকটি কার্ডের প্রতিশ্রুতিছাড়া বাকি সময়টা জামায়াতে ইসলামী জোটের সমালোচনা করাছাড়া আর কোনো কিছুতেই মনযোগী হননি তারা। কিন্তু ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ডসহ অনেকগুলো কার্ডের প্রতিশ্রুতি দিলেও এগুলোর জন্য অর্থ সংস্থান হবে কোথা থেকে, তার কোনো স্পষ্ট তথ্য জাতির সামনে হাজির করেননি। ২ হাজার টাকা করে ফ্যামিলি কার্ডে টাকা দেয়া হবে। ৪ কোটি ফ্যামিলি কার্ডের জন্য মাসে লাগবে ৮ হাজার কোটি টাকা। বছরে ৯৬ হাজার কোটি টাকা। এ টাকা আসবে কোত্থেকে, সে হিসাব দেননি। উল্টো, মানুষ আতঙ্কে রয়েছে ফ্যামিলি কার্ডের ২ হাজার টাকা তোলার জন্য বিএনপির চাঁদাবাজদের কতটাকা করে চাঁদা দিতে হবে, তা নিয়ে।
শিক্ষিত তরুণদের কাজের ব্যবস্থা করার কোনো প্রতিশ্রুতি নেই, আছে বেকার ভাতার কথা। বেকার ভাতা দিয়ে শিক্ষিত তরুণ-যুবকদের আরও অকর্মণ্য করে তোলার প্রতিশ্রুতি হিতে-বিপরীত হতে যাচ্ছে বিএনপির জন্য। যুব সমাজ চব্বিশের জুলাই আন্দোলন করেছিল যোগ্যতা অনুযায়ী কাজের ন্যায্য অধিকারের জন্য। বেকার ভাতা পাওয়ার জন্য নয়।
সবচেয়ে বড় কথা, বাংলাদেশ সম্পর্কে তারেক রহমানের কোনো স্টাডি নেই। বিভিন্ন বিভাগীয় ও জেলা শহরে গিয়ে তিনি যে সব ভুলভাল বক্তব্য দিয়েছেন, তা এরই মধ্যে সারাদেশে হাসির খোরাক যুগিয়েছে এবং তাকে অযোগ্য হিসেবে প্রমাণ করে তুলেছে। চট্টগ্রামে গিয়ে তিনি বলেছেন, চট্টগ্রামকে বাণিজ্যিক রাজধানীর মর্যাদা দেয়া হবে। অথচ, ২০০৩ সালেই তার মায়ের নেতৃত্বে চারদলীয় জোট সরকার সেই মর্যাদা দিয়েছিল। কুমিল্লায় বলেছেন, ইপিজেড করে দেবেন। অথচ, ২০০৩ সাল থেকেই ইপিজেড চালু রয়েছে কুমিল্লায়। ফরিদপুরে বললেন, সোয়াবিন চাষ বাড়িয়ে দেবেন। অথচ, সেখানে সোয়াবিনই চাষ হয় না। হয় ভুট্টা। যশোরে বললেন, চিনিকল পূনরায় চালু করবেন। অথচ, যশোরে চিনিকলই কখনো ছিল না।
নীলফামারীতে মেডিক্যাল কলেজ স্থাপনের প্রতিশ্রুতি দিলেন, অথচ সেখানে আগে থেকেই মেডিক্যালন কলেজ রয়েছে। দিনাজপুরের আমকে তিনি বিশ্বের বাজারে ঠাঁই করে দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেন। অথচ, দিনাজপুরে বিখ্যাত হলো লিচু। তিস্তা ব্যারেজ নির্মাণের ঘোষণা দিয়েছেন। অথচ, এই ব্যারেজ রয়েছে ১৯৯০ সাল থেকে।
ঢাকার মেট্রো রেলের সমালোচনা করে বললেন, মাত্র ২৫ ভাগ মানুষের উপকার করছে এই মেট্রো। অথচ, তিনি হিসেব করলেন না, ঢাকা শহরে ২৫ ভাগ মানুষ মানে হলো অন্তত ৫০ থেকে ৭০ লাখ মানুষ। তিনি এতবড় একটি সংখ্যাকে হিসেবেই ধরলেন না।
ইসলাম সম্পর্কেও জানাশোনা খুবই কম জনাব তারেক রহমানের। তিনি ইসলামের ইতিহাস কখনো পড়েননি, এটা নিশ্চিত। যে কারণে বলে বসলেন, হযরত আয়েশা (রাঃ) বদর যুদ্ধের নেতৃত্ব দিয়েছেন।
জানার আরো অনেক ঘাটতি আছে তার। নারী ইস্যুতে নিজেরা অনেক বেশি হেনস্তা হওয়ার পর অনেক পরিকল্পনা ও ষড়যন্ত্র করে জামায়াত আমিরের টুইটার আইডি হ্যাক করে সেখান তেকে নারীদের বিষয়ে আপত্তিকর মেসেজ পোস্ট করা হয়েছে। জামায়াত বিষয়টাকে দ্রুত হ্যান্ডেল করে জানিয়ে দিয়েছে, কাদের কাজ এটা। কিন্তু পরিকল্পনা অনুযায়ী ছাত্রদল, যুবদল, মহিলা দল এবং মূল বিএনপি- তুমুল আন্দোলন-প্রতিবাদে ফেটে পড়লো। যেন পরিকল্পনামত আলাদিনের চেরাগ হাতে পেয়ে গিয়েছিল তারা। সর্বশেষ তারেক রহমানও সমাবেশে বিষয়টা নিয়ে কথা বলতে গেলেন। তাতেও বিপত্তি। ঠিকমত `হ্যাক‘ শব্দটাই উচ্চারণ করতে পারলেন না তিনি। ১৭ বছর লন্ডনে থেকে আসা একজন ব্যক্তির মুখ থেকে এমন একটি শব্দ বের হতে `দাঁত ভাঙা‘র মত অবস্থা দেখে মানুষ বুঝে গেছে কার যোগ্যতা কতটুকু। কে কাকে দিয়ে জামায়াত আমিরের টুইটার অ্যাকাউন্ট হ্যাক করিয়েছে।
শুধু তাই নয়, রয়টার্সের সঙ্গে সাক্ষাৎকার দিতে গিয়ে জনাব রহমান যেভাবে ইংরেজিতে কথা বলেছেন, তা দেখে বিএনপির অনেককেই বলতে শুনেছি, ‘তার ইংরেজি ভাষাজ্ঞান হাইস্কুল লেভেলে থার্ড গ্রেডেরও না।’ ১৭ বছর লন্ডনে থাকা একজন ব্যক্তির ইংরেজি এত দুর্বল! তাহলে তিনি দেশ চালাবেন কিভাবে?
মূলতঃ তিনি কোনোভাবেই নিজেকে প্রস্তুত করেননি দল ও দেশ চালানোর জন্য। ১৭ বছর লন্ডনে বসে থেকে একটা ডিগ্রি নিতে পারলেন না। ইংরেজিটাও ঠিক মত শিখতে পারেননি।
গণভোটের বিষয়ে তারেক রহমানদের তথা বিএনপির অবস্থান ছিল ‘না’ ভোটের পক্ষে। কেন্দ্রীয় দু’একজন নেতা কৌশলে ‘হ্যাঁ’ এর কথা বললেও সারাদেশে বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা ‘না’ ভোটের প্রচারণা চালিয়েছেন। ‘না’ ভোট মানে জুলাইয়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়া। ‘না’ ভোট মানে ভারতীয় আধিপত্যবাদের পক্ষে অবস্থান গ্রহণ করা। ‘না’ ভোট মানে আওয়ামী ফ্যাসিবাদকে টিকিয়ে রাখা। তারেক রহমান শুরু থেকে রহস্যজনক কারণে এ বিষয়ে ছিলেন পুরোপুরি চুপচাপ। শেষ পর্যন্ত জনমতের অবস্থান দেখে নিজেদের পিঠ বাঁচাতে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রকাশ্যে কথা বললেন তিনি। এতে করে দেশব্যাপি ‘না’ ভোটের প্রচারণা চালানো তার নেতা-কর্মীরা পড়ে যায় বিপাকে। এরপর দেখা গেলো, বিএনপির ইশতেহারে ‘না’ ভোটকেই উৎসাহিত করা হয়েছে। সংস্কারের বিষয়গুলোকে পাল্টে দেয়ার প্রতিশ্রুতি রাখা হয়েছে ইশতেহারে। জনগণের প্রশ্ন, তারেক রহমান এবং বিএনপি আসলে কোন পক্ষে? ‘হ্যাঁ’ না ‘না’ ভোটের পক্ষে।
সর্বশেষ ভারতীয় আধিপত্যবাদ প্রসঙ্গ। জুলাই আন্দোলনের অন্যতম স্পিরিচুয়াল শক্তি ছিল ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিপক্ষে লড়াই। হাসিনা দেশকে ভারতের কাছে বিক্রি করে দিয়েছেন। সেখান থেকে ছাত্রজনতা জুলাই আন্দোলন করে বাংলাদেশকে দ্বিতীয় স্বাধীনতা এনে দিয়েছে। এবার নির্বাচনের আগে তারেক রহমান এবং বিএনপির পক্ষ থেকে আধিপত্যবাদ বিরোধী কোনো অবস্থানই মানুষ দেখেনি। বরং, সচেতন নাগরিকরা বিশ্বাস করে, বিএনপি ভারতের সঙ্গে আঁতাতা করেই নির্বাচনের লড়াইয়ে নেমেছে। ভারত নির্লজ্জভাবে বিএনপিকেই সমর্থন করে যাচ্ছে। যে তারেক রহমান মায়ের সঙ্কটাপন্ন অবস্থা সত্ত্বেও লন্ডনে বসে বলেছিলেন, দেশে ফেরা তার একক সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করে না, সেই তিনি কয়েকদিনের মধ্যে কিভাবে, কার সঙ্গে সমঝোতা করে দেশে এসেছেন- জাতি জানতে চায়। কিন্তু তারেক রহমান তার কিছুই স্পষ্ট করেননি।
নারী হেনস্তা, তাদের কাপড় খুলে ফেলা, মাথায় কোপ দেওয়া, রাস্তাঘাটে গায়ে হাত দেওয়া এমনকি বৃদ্ধা ও গর্ভবতী নারী পেটে লাথি দেওয়ার মত ঘটনা ঘটিয়েছে বিএনপির নেতাকর্মীরা। দেশব্যাপি তুমুল চাঁদাবাজি এখনও অব্যাহত রেখেছে তারা। তারেক রহমান এদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি।
আগামী দিনের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার মত একজন শীর্ষ নেতার যখন এত অযোগ্যতা সামনে এসে দাঁড়ায়, তখন মানুষ চিন্তা করতে বাধ্য হচ্ছে- মূলত তারা কাকে নির্বাচন করবেন? এমন একজন অযোগ্যকে, নাকি যারা যোগ্যতার সঙ্গে দেশে ন্যায় ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করতে পারবেন, দুর্নীতি প্রতিরোধ করতে পারবেন, তাদেরকে?